বিড়ালের কৃমি ও কৃমি হওয়ার লক্ষনসমুহ এবং কৃমি হলে করনীয়

বিড়ালের কৃমি ও কৃমি হওয়ার লক্ষনসমুহ এবং কৃমি হলে করনীয়

বিড়ালের অভ্যন্তরীণ পরজীবীদের মধ্যে কৃমি অন্যতম। বেশি কৃমি হওয়া বিড়ালের স্বাস্থ্যর পক্ষে ক্ষতিকর।  বিড়ালের মূলত চার ধরনের কৃমি হয়ে থাকে।

১। Roundworm (গোলক্রিমি) :  বিড়ালের সবচেয়ে পরিচিত পরজীবী হচ্ছে গোলকৃমি। এরা বিড়ালের পাকস্থলীতে বসবাস করে। বাচ্চা বিড়াল ও বড় বিড়াল উভয়েরই এর কৃমি হয়। গোল হয়ে থাকে বলে একে গোলক্রিমি বলে। এরা ৩-৪ ইঞ্ছি লম্বা হয়। এই কৃমির ডিম শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে তাই মাটিতে এরা ৬ মাস -১ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

২। Hookworm  :   হুকওয়ার্ম, Roundworm এর চেয়ে অনেক ছোট। মাত্র ১-২ ইঞ্ছি লম্বা হয়। এরা বিড়ালের ক্ষুদ্র অন্ত্রে বসবাস করে। কারন এরা শুধু প্রাণীর রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা বিড়ালের জন্য হুমকিস্বরূপকারন মারাত্মক রক্তশূন্যতা (anemia) সৃষ্টি করে। কুকুরের চেয়ে বিড়ালের গায়ে এই কৃমি বেশি দেখা যায়।

৩। Tapeworm (ফিতাকৃমি) :  লম্বা এবং চ্যাপ্টা Tapeworm এক ধরনের বিভক্ত পরজীবী। এদের দেহ খণ্ড খণ্ড ভাগে বিভক্ত এবং লম্বায় ৪-২৮ ইঞ্ছি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটা বমি এবং ওজনহীনতার কারন। Tapeworm বিভক্ত হয় যা দেখতে ভাতের মত এবং আক্রান্ত হলে বিড়ালের লোমে এবং লেজের দিকে আটকে থাকতে দেখা যায়।

8। lungworm  :  বিড়ালে ফুসফুস (lung) এ বসবাস করে। এই কৃমি হলে বিড়ালের শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয় এবং কাশি হয়। যেসব বিড়াল বাইরে যাতায়াত করে এবং শিকার করে খায় তারা এই কৃমিতে বেশি আক্রান্ত হয়।

কৃমি হওয়ার কারনসমুহ :

দেহে কৃমি থাকলে বিড়াল অসুস্থ হয়ে পড়ে আর তাই একে প্রতিরোধ করা খুবই জরুরী। বিভিন্ন কারনে কৃমি হতে পারে। যেমন-

  • কৃমির ডিমযুক্ত মাটি এবং গাছ খাওয়ার মাধ্যমে।

  • কৃমির ডিমযুক্ত মলের মাধ্যমে।

  • বিড়ালের গায়ে Flea থাকলে এবং তা পাকস্থলিতে গেলে।

  • মা বিড়ালের যদি কৃমি থাকে তাহলে তার দুধ খেলে বাচ্চাদের কৃমি হয়।

  • ইঁদুর ও পাখি শিকার করে তা খেলে।

সুতরাং কৃমি যাতে না হয় তাই বিড়ালকে আলাদা যত্ন নিতে হবে। কাঁচা মাংস, মাটি যাতে না খায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, Flea মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে।

http://petvetbd.com/

 

কৃমি হওয়ার লক্ষনসমুহ :

বাহ্যিক পরজীবী যেমন Tick ও Flea আমরা দেখতে পাই। কিন্তু কৃমি সহজে চোখে পড়ে না, শরীরের অভ্যন্তরে থেকে বিড়ালের শারীরিক অসুস্থতার কারন হয়ে দাঁড়ায়। বিড়ালের কৃমি হলে কিছু লক্ষন দেখে বোঝা যায় আবার অনেক সময় লক্ষন দেখা দেয় না। নিচের লক্ষনগুলো দেখলে বুঝতে হবে কৃমি হয়েছে –

  • বিড়ালের ডায়রিয়া হয়।

  • পায়খানার মধ্যে কৃমি দেখা যায় এবং মলদ্বার (anus) এর কাছে দেখা যায়।

  • বিড়াল বারবার anus চাটে।

  • খাবার খেতে চায় না, অরুচি হয়।

  • পেট ফুলে যায়।

  • ওজনহীনতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

  • বমির সাথে কৃমি পরে ও কাশি হয়।

এই লক্ষনগুলো দেখলে বোঝা যায় বিড়ালের কৃমি হয়েছে। তখন বিড়ালকে Deworming অর্থাৎ কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।

বিড়ালের বয়স যদি ২মাস এর বেশি হয় তাহলে Delentin সিরাপ 1ml করে পরপর ২দিন খাওয়াতে হবে। তবে বয়সের তুলনায় ওজন কম হলে 0.60 ml করে খাওয়াতে হবে। এই ওষুধ শুধুমাত্র গোলকৃমি দূর করে।

ভিজিট করুন- PetVet BD

Add Comment

You must login to add a comment. If you do not have an account, you may register for one. Registration is free!

//-->